পাত্র পাত্রীর বয়সের ব্যবধানঃ

এটা অনেকের কাছে খুবই কনফিউশন এর বিষয়। বিয়ের ক্ষেত্রে নিজের চেয়ে বয়সে কোনো বড় মেয়েকে যদি পছন্দ হয়, তাহলে অনেক কথা শুনতে হয়। পারিবারিক অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে যে কি করনীয়? নিজের চেয়ে কি বড় মেয়েকে বিয়ে করা সম্ভব?
 

সামাজিক দৃষ্টিতে এ বিষয়টি প্রচলিত নয়। ধর্মীয় বা আইনগত দিক থেকে অবশ্য কোনো বাধা নেই। আর পারিপার্শ্বিক সমস্যা থাকবেই।কারণ আপনি যদি এমন কাজ করেন যে, আপনার চারপাশের মানুষ করছে না, তখন তো আপনাকে কথা শুনতেই হবে।
আসলে এটি সবসময় নির্ভর করে পাত্র-পাত্রীর ওপরে এবং তারা যে পরিবেশে থাকবেন সেই পরিবেশের উপর। যদি পাত্র-পাত্রীর মধ্যে বোঝাপড়া ঠিক থাকে, তাহলে বিষয়গুলো কখনোই সমস্যা করে না।

 

কনের চেয়ে বরের বয়স বেশি হতে হবে এটি কে অবিদ্যা নাকি ধর্মীয় অনুশাসন?

এ ব্যাপারে ধর্মীয় কোন অনুশাসন নেই ।কনের বয়স বা বরের বয়স কত হবে এটা সবসময় নির্ভর করে, যারা বিয়ে করবে তাদের উপর।

 

বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স কোনো সমস্যা না হলে আমাদের সমাজ অবস্থায় কি ব্যাপক পরিবর্তন আসবে না?  অভিভাবকরা  কি তার বড় বয়সের মেয়েটিকে ছোট ভাইয়ের সাথে পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে থাকবেন?
 

কোন মেয়েকে বয়সে ছোট কোন ছেলের সাথে ছোট ভাই মনে করে পাঠানোই তো একটা অবিদ্যা।সে তো ছোট ভাই নয়। যদি ঘন ঘন পাঠাতে থাকেন তবে ঘন ঘন মিশতে থাকে -একটা সময় তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠবেই। তখন বলতে পারবেন না, ছোট ভাই মনে করেছিলাম ।আগে থেকে বুঝে চলতে হবে।বয়সে ছোট হলেই যে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ঝোঁক থাকবে না এমন কোন কথা নেই।
 যে কোন বয়সের মানুষের সাথে যে কোন বয়সের মানুষের সম্পর্ক হতে পারে। যদি সে রকম সুযোগ সৃষ্টি হয়। সেজন্য প্রথম থেকেই সতর্ক হতে হবে। আপনার কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে কেন স্কুলপড়ুয়া আরেকটি ছেলের সাথে পাঠাবেন?
 পাঠানোর আগে আপনাকে চিন্তা করতে হবে। আপনি হয়ত ভাবলে্ন,্মেয়ে যেহেতু বড়,ছোট ছেলের প্রতি তার আকর্ষণ থাকবে না। বিষয়টি তা নয়,আকর্ষণীয় ভাব মেয়ের দিক থেকে হতে পারে।

 

-->সমবয়সীদের মধ্যে কি বিয়ে সম্ভব?

যারা বিয়ে করবেন এই দুজন হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।তারা সিদ্ধান্ত নেবেন-সমবয়সী হবেন, না ছেলের বয়স বেশি হবে, না মেয়ের বয়স বেশি হবে। সাধারণভাবে ছেলে এবং মেয়ে যখন সমবয়সী হয় তখন তাদের মধ্যে ব্যক্তিত্বের সংঘাতের আশঙ্কা বেশি থাকে।
আবার যেহেতু মেয়েদের পারিপার্শ্বিকতা বোঝার ক্ষমতা একটু বেশি, সমবয়সী হলে দেখা যায় যে মেয়েটি ছেলেটির তুলনায় বেশি ম্যাচিউরড। তাদের দাম্পত্য জীবনের জটিলতা ইত্যাদি কারণ হয়।

যেমন কুড়ি বছরের মেয়ের যে ম্যাচুরিটি কুড়ি বছরের ছেলের তো তা হয়না যখন দুজনেরই বয়স কুড়ি মেয়েটি তখন তার স্বামীকে শ্রদ্ধা করতে পারে না। অন্যদিকে স্বামী ভাবে, আমার বয়স যাই হোক আমি পুরুষ। তখন সংঘাতটা বেশি হয়।

আবার সমবয়সী বিয়ের কিছু জৈবিক বিষয়ও আছে। ৪০ পেরোনো একজন পুরুষের সমবয়সী স্ত্রীও যখন ৪০ পেরোয় তখন সাধারণভাবে তার প্রতি জৈবিক আকর্ষণ কমতে থাকে। তখনই পরকীয়া, ভুল বোঝাবুঝি,ইত্যাদি শুরু হয়। এসব কারণে সাধারণভাবে সমাজ বিজ্ঞানীরা মনে করেন কোন বয়সের একটা ব্যবধান থাকা উচিত।

Share this Post