বিয়েতে মা-বাবার মতের গ্রহণযোগ্যতাঃ

মা বাবার অমতে বিয়ে করাটা খুব একটা সুখকর জিনিস নয়।হয়ত মনে করছেন, আপনি সামান্য সুখের আশায় অথবা বর্তমান মোহের আশায় মা-বাবার অমতে বিয়ে করে বর্তমানে সুখী থাকতে পারবেন। কিন্তু সেই সুখ চিরস্থায়ী নয়। ওইদিকে মা বাবা ও আপনাকে মতামত না দেওয়ার কারণে তারাও বিষণ্ণতায় ভুগবে। প্রত্যেকের উচিত প্রত্যেক সন্তানের উচিত মা-বাবারই মতামত নেওয়া। এতে সবাই মিলে সুখে থাকা যায়। কয়েকটি  বাস্তব উদাহরণ দিয়ে আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করি চলুন:
 

একটি মেয়ে একটি ছেলেকে পছন্দ করে। ছেলেটি ভালো এবং শিক্ষিত পরিবারের। সে সবসময় মেয়েটির বিপদে পাশে থেকে সাহস যুগিয়েছে।অন্যদিকে বাবা-মা আবার মেয়েটির সবকিছু। তাদেরকে কষ্ট দিতে মেয়েটির মন চায় না। বাবা-মাকে ছেলেটির কথা বলার পর তারা কিছু বলেনি ।তারা মত না দিলে সেই মেয়েটির কি ছেড়ে দেওয়া উচিত? কখনো না।

মা বাবাকে কষ্ট দিতে না চাওয়ার ইচ্ছাটা প্রশংসনীয়। কারণ যে ছেলেমেয়েরা বাবা মাকে কষ্ট দিয়ে বিয়ে করে অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে তাদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর দাম্পত্য জীবন কোথাও না কোথাও ভীষণ একটা ফাঁক থেকে গেছে। যদিও তারা নিজেরাই পছন্দ করে বিয়ে করেছে,কিন্তু বিয়ের পর দেখা যায় কোনো না কোনো কারণে অস্থিরতা ভুল-বোঝাবুঝি অশান্তি লেগে থাকে।তাই মা বাবার দোয়া এবং আশীর্বাদ নিয়ে বিয়ের কাজটা করা উচিত।

আর ছেলেটি যেহেতু ভালো এবং শিক্ষিত পরিবারের,সেহেতু সে একজন সুপাত্র । তার সম্পর্কে ভাল বৈশিষ্ট্যের কথা বাবা মাকে  বলা হলে তারা তো অমত হওয়ার কথা না। যখন কাউকে ভালো লাগে তখন তার গুন গুলো শুধু চোখে পড়ে, দোষ নয়। দোষ থাকলে সেটাকে খুব বড় মনে হয় না। গুনগুলো  ই শুধু বার বার চোখে ধরা পড়ে,তার মধ্যে হাজার দোষ থাকলেও।

 বিয়ের পর আসলে ভালো লাগার রঙিন চশমা খুলে যায় এবং বাস্তবের মানুষটিকে দেখা যায়। ছেলেটিকে ভালো করে চেনা যায়। সবসময় নিজের কথা গুরুত্ব না দিয়ে পরিবার এবং নির্ভরযোগ্য কোনো তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে যাচাই করা উচিত ছেলের ব্যাপারে। সব রকম খোঁজ খবর নেওয়া উচিত।

যে কাউকে ভালো লাগতেই পারে। সুন্দর জিনিস, ভালো জিনিস দেখে ভালোলাগার মধ্যে দোষের কিছু নেই। পছন্দ করলে যে, বিয়ে করতে হবে এটা ভ্রান্ত ধারণা।সেই ছেলের/মেয়ের খুত আছে কিনা সে বিষয়টিও দেখা প্রয়োজন। বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলে সেটা কতটা যুক্তিসঙ্গত সেটাও দেখা উচিত। 

নিজের পছন্দের পাশাপাশি মা-বাবার পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। মা বাবার অমতে বিয়ে করতে হলে নিজের  সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে হবে।আবার মা-বাবার সিদ্ধান্তটাও শোনা উচিত।কারণ মা বাবার দোয়া ছাড়া সুখের হয় না। কোন না কোন ভুল বোঝাবুঝি লেগেই থাকে।

অবশ্য মা-বাবা অনেক সময় কিছু কারণে অমত করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অবহেলা করেন না। এখনকার মা-বাবারা চায় যে  তার সন্তানরা সুখী হোক।আবার মা বাবা অনেক বাস্তব প্রতিফলন এর জন্য অমত করেন, কারণ তারা যে দূর দৃষ্টি নিয়ে দেখেন সন্তানরা হয়তো সেভাবে ভাবে না।যেমন সুন্দর চেহারা মিষ্টি কথা শুনে সন্তানরা আবেগ নিয়ে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এখনকার ছেলে মেয়েরা বিয়ের আগে অনেক মিষ্টি কথা বলে।আজকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক মেয়ে নাকি  শহরে এসে ছেলেদেরকে  হাতের পাঁচ হিসেবে দাবী করে। যদি ভালো কাউকে পেয়ে যায় তাহলে তাকেই বিয়ে করে। তরুণ বয়সে সব কথা কানে এত ভালো লাগে যে অনেক বাস্তবতা চোখ এড়িয়ে যায়।সেটার ভয়ই মা-বাবা পেয়ে থেকে যে তরুণ বয়সে তার সন্তান কোন ভুল পথে পা বাড়ালো কি না?

ধরুন দুজন দুজনকে পছন্দ করে বিয়ে করেছে। তারা ভালো আছে। এখন তাদের মা-বাবা তাকে মেনে নিচ্ছেন না। ছেলে মেয়ে দুজনই পরিবারের সাথে থাকতে চাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে যা করা উচিত তা নিচে দেওয়া হল:

আসলে সবাই তাৎক্ষণিক ফলাফল চাই। যেহেতু বিয়েটা মা-বাবার অমতে হয়েছে সেহেতু কাঠ-খড় পোড়াতে হবে। ছেলে মেয়ে মা-বাবার সাথে থাকতে চাচ্ছেন এবং তাদের এই চাওয়াটা হচ্ছে একটি সৎ নিয়ত। কিছুদিন  পরে তো মা-বাবার এই সামর্থ্য থাকবে না।শারীরিক সামর্থ্য কমে যাবে তখন একটি শিশুর মতোই মা-বাবাকে ছেলে মেয়েরই সেবা যত্ন করতে হবে। অতএব সবুর করা এবং ধৈর্য ধরাটাই মুখ্য বিষয় এখানে। আর ছেলেমেয়েদেরকে মনে মনে বলা উচিত “মা-বাবারা গ্রেটেস্ট হতে পারেন কিন্তু তারা লেটেস্ট।”

আসলে যে কোন কিছুর জন্য অপেক্ষা করে থাকতে হয়। প্রত্যেকটা ছেলেমেয়ের তাদের মা-বাবার  সাথে থাকতে চাই।আবার কিছু লোক আছে যারা শুধু শ্বশুর-শাশুড়ির কথা চিন্তা করে।  শ্বশুর-শাশুড়ির কথা চিন্তা করে নিজের মা-বাবাকে দূরে ঠেলা উচিত নয়।শেষকালে মেয়েটাকে শুনতে হবে "আমার ছেলে আমার কাছ থেকে নিয়ে গেল। আমার ছেলেটা যদি থাকতো তাহলে আমাকে কোন কষ্ট করতে হত না।"তখন দুই পরিবারের শান্তি বিঘ্নিত হবে। তাই সবার উচিত প্রত্যককে সম্মান, মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে সবার মন জয় করে তারপর বিয়ে করা।

SCAN TO VIEW

OUR OFFICES