বিয়েতে মা-বাবার দায়িত্ব

বিয়েতে মা-বাবার দায়িত্ব অনেক। ছেলে মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রে মা-বাবা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছেলে/মেয়ের পছন্দ থেকে শুরু করে বিয়ের শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মা বাবার অবদান অপরিসীম।

অন্যদিকে,বিয়ের পছন্দের ব্যাপারটি সন্তানের উপর ছেড়ে দিলে তারা তো কলেজে পড়াকালীন সময়ে যাকেই পছন্দ করবে তাকেই বিয়ে করতে চাইবে।সেটা কি দেওয়া সম্ভব?এটা হওয়ার কারণ তখন ছেলে/মেয়েদের  চোখে রঙিন চশমা থাকে, তাই সবকিছুই ভালো লাগে। বিয়ের পর ছেলেরা/মেয়েরা বদলে যায়, কারণ তারা বুঝতে শুরু করে সংসার করা কোন হালকা  ব্যাপার নয়। একজন মেয়ের মা-বাবা হিসাবে ছেলে/মেয়েকে বোঝানোর দায়িত্ব তাদেরই। 

সন্তানের বিয়ে না হলে অনেক মা-বাবাই খুব আবেগপ্রবণ হয়ে যান। অথচ এটা বুঝেন না যে বিয়ে না হওয়া নিয়ে ছেলে/মেয়ের কষ্ট কিন্তু তার মা-বাবার চেয়ে  কোন অংশে কম নয়। আর বিয়ে করতে চাওয়ার পরও বিয়ে না হওয়া তো ছেলে/মেয়েটির দোষ নয়।অনেক কারণের জন্য মেয়ে বা ছেলের বিয়ে ভেঙ্গে যেতে পারে।আমাদের দেশে এটা মেয়েদের ক্ষেত্রেই দেখা যায় ঘটে বেশি। এজন্য তাকে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা দেয়া মানে তাকে রীতিমত নির্যাতন করা।অনেক পরিবারে মেয়েকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয় যা খুবই অমানবিক এবং অবিবেচনাপ্রসূত। কারণ চৌদ্দশ বছর আগে আল্লাহর রসূল নারীকে দিয়েছেন সম্পত্তির অধিকার।

মেয়েরা সাধারণত বাবা-মায়ের বাসায় থেকে তাদের মেধা ও যোগ্যতা কাজে না লাগাতে পেরে নিজের পরিচয় সৃষ্টি করতে তেমন একটা পারে না। তাদের উচিত নিজের পরিচয় সৃষ্টি করা, স্বাবলম্বী হওয়া।তাহলে তিনি সম্মানের স্থানে যেতে পারবেন, আর যদি তেমন কোন বিয়ের প্রস্তাব আসে তাহলে সেই বিয়ের ব্যাপারে গড়িমসি না করে বিয়েটা  করে ফেলা উচিত।

সন্তানের সঙ্গী নির্বাচনের ব্যাপারে মা-বাবার সঠিক দিক নির্দেশনা দেওয়া উচিত। সন্তানকে যদি আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন তাহলে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ব্যাপারে আলাদা করে মা-বাবাকে কোন পরামর্শ দিতে হবে না। জীবনের ব্যাপারে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে ছোটবেলা থেকে গড়ে না তুলে শুধু বিয়ের ব্যাপারে বোঝালে হবেনা। আর অন্যদিকে তাকে অনন্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুললে বিষয়টি সে এমনি বুঝতে পারবে।

একটা মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রে কখনো তার মা-বাবাকে ছেলের শুধু টাকা-পয়সার বিষয়ে গুরুত্ব দিলে হবে না। অবশ্যই মা বাবা মেয়ের জন্য ভালো ছেলে চান। কিন্তু ছেলে শিক্ষিত নয় এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে ও মেয়ের দৃষ্টিভঙ্গির মিল ঘটে না এমন ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক করা কিংবা তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা খুবই অন্যায় হবে।অনেক মা-বাবা আছে যারা বলে যে, ছেলের অনেক টাকা আছে, বিয়ে করছ না কেন?

তখন মেয়ের তার মা-বাবাকে বোঝাতে হবে যে শুধু টাকা থাকলেই ছেলেকে বিয়ে করা যায় না। ছেলে শিক্ষিত হতে হবে এবং তার সাথে তার কালচার, তার পারিবারিক পরিবেশটাও গুরুত্বপূর্ণ। টাকা দিয়ে হয়তো অনেক কিছু কেনা যায়, কিন্তু সুখ শান্তি কেনা যায় না। সুখ শান্তি পেতে হলে  বাবা-মার অবশ্যই ছেলে কেমন এটা অবশ্যই দেখতে হবে।

অন্যদিকে মা বাবা যদি টাকা পয়সার কথা বলে সমস্যা সৃষ্টি করে তখন প্রত্যেক মেয়েকে তার নিজের দৃষ্টিভঙ্গির কথা স্পষ্ট করে বলা উচিত।