বাচ্চা খেতে না চাইলে

ছোট বাবুদের খাবার ব্যাপারে অনীহা কিভাবে দূর করা যায়?

ছোট বাবুদের যত কম করে রাখা যায় তত ভালো আর খাবারের ব্যাপারে যত আগ্রহ কম দেখানো যায় তা তো তার খাবারের আগ্রহ বাড়বে।

কারণ যায় এমনি পাওয়া যায় সেটার প্রতি কারো আগ্রহ থাকেনা। খুদা যখন লাগবে তখন নিজেই খাবে। আর বাচ্চা যখন ঘুমাবে তখন মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলবেন তুমি খুব ভালো খাবার দিলে খেয়ে ফেলো।

তাহলে মেসেজটা তার প্রাণ চলে যাবে এবং অবচেতন থেকে খাওয়ার প্রতি তার আগ্রহ বাড়বে আর কখনো কাউকে বলবেন না যে আমার বাচ্চা খায় না। তার সামনে তো বলবো না আর হলেও বলবেন না।

আমার একমাত্র মেয়ের বয়স ৪ বছর খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে তার অনীহা। বয়সের তুলনায় ওজন কম। বহুবার এ ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।

তার অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। খেতে বললে এখন খাব না,এভাবে খাব না, এর কাছে খাব না ইত্যাদি নানা অজুহাত দেখায়। এর প্রতিকার কি?

তাকে কম পরিমাণে খাবার দেবেন এবং বার বার দেবেন।কারণ কেউ কেউ তিন বার বেশি পরিমাণে খাওয়ার বদলে অল্প করে বার বার খেতে পছন্দ করে।আপনার সন্তানকে খুব অল্প করে বার বার খাবার দিয়ে বলবেন খেলে খাও,না খেলে আর পাবে না।খাবার কিন্তু এইটুকুই আছে।অর্থাৎ সময় দিয়ে বার বার খেতে দেবেন,জোরাজুরি করবেন না।
 একবার এক ভদ্রমহিলা কোর্সে এসে বললেন,আমি তো নিজের জন্যে আসি নি,এসেছি আমার মেয়ের জন্যে।মেয়ের বয়স পাচ বছর।সারাদিন খাবার নিয়ে তার পিছনে দৌড়াতে হয়।একে তো খাবার মুখে নিতে চায় না।আর নিলেও খাবারটা ঠোটে আটকে রাখে।চিবায়ও না,গিলেও না।আমি বললাম,আপনার মেয়ে তো খাবে না।ভদ্রমহিলা একটু অবাক হলেন।বললেন,কেন?
বললাম এর কারন আপনি এবং আপনার নেতিবাচকতা।আপনার মেয়ে যে খায় না,এটা নিশ্চয়ই আপনি সবাইকে বলেন।বল্লেন,তা বটে।তাকে বললাম,আপনি এখানে সমস্যাটা করেছেন।

এখনকার বাচ্চারা খুব বুদ্ধিমান। তাদের আত্মসম্মানবোধ ও টনটনে। আপনি যখন বাচ্চার সামনে আপনার কোন আত্মীয় বা পরিচিত করে তারপরে বলছেন সেটা দেখল এই আন্টির কাছে আমার আর কোন মান সম্মান নেই। এখন থেকে যে আত্মীয় আসবে তাকে বলবেন আবার মেয়ে ভালো। ও অন্যদের মত না ও খাবার দিলে খেয়ে ফেলে।

আসলে আমরা সমস্যার সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলি। সমস্যা টা কি তাকে খাবার খাওয়ানো।

খাবার খায় না এটা তো সমাধান না। এখনো সমাধান করতে হবে আপনি বারবার তার সামনে সমস্যার কথা অন্যদের বলেছেন চিন্তার মধ্যে সমস্যাটাই ধরে রেখেছেন ।

রাতে যখন সে বিছানায় শুয়ে তার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বারবার বলবেন তুমি খুব ভালো খাবার দিলে খেয়ে ফেলো। তুমি খুব ভালো খাবার দিলে খেয়ে ফেলো। উত্তরটা আপনি তাকে দিয়ে করাতে চাচ্ছেন এই মেসেজটা তাকে বার বার দিবেন। তখন তো আধা ঘুম আধা সজাগ কিছু শুনছে না কিছু শুনছো কিছু শুনছে না। তাই আমি মেসেজ তো যাচ্ছে। কারণ ঘুমালেও একটা ইন্দ্রিয় সজাগ থাকে সেটা হচ্ছে কন।

আসলে সমস্যা কোথায় আপনিতো মেয়েকে সময় দেন না। এখনকার বাচ্চারা খুব দুঃখের। বাচ্চা তাদের কারও ভাই আছে তো বোন নেই কারও বোন আছে তো ভাই নেই, কারো ভাই নেই বোন নেই।

বাচ্চা বোঝাতে যতক্ষণ আমি না খাব ততক্ষণ না আমার পেছন ঘুরবে। বাচ্চাদের মনোযোগ যাচ্ছে। তাই অনেক সমস্যা না খেয়ে থাকতে শুধু আপনার মনোযোগ এর প্রত্যাশায়। খেলেও যেন সে মনোযোগ পাই এটা খেয়াল রাখতে হবে।